জেন-জি জিতেছে বিপ্লবে, নির্বাচনে দাপট পুরনোদেরই PAYRA NEWS PAYRA NEWS প্রকাশিত: ৮:৫৭ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশে আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জেন-জি নেতৃত্বাধীন এক বিদ্রোহে দীর্ঘদিনের ক্ষমতাধর স্বৈরশাসকের পতনের পর এটিই দেশের প্রথম নির্বাচন। ওই বিদ্রোহ ছিল এমন, যা কোটি কোটি তরুণ-তরুণী স্বপ্ন দেখেছিল তাদের দেশের জন্য এক নতুন পথ খুলে দেবে। ২০২৪ সালের আগস্টে ঢাকায় বিক্ষোভকারীরা যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবনে ঢুকে পড়েন, তখন হেলিকপ্টারে করে তার দেশত্যাগের দৃশ্য বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে। সেই দৃশ্য শুধু বাংলাদেশের রাজনীতিতেই নয়, বিশ্বের অন্য দেশে তরুণদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনগুলোকেও আলোড়িত করে। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে এমন আন্দোলনের ঢেউ নেপাল (শ্রীলংকা) ও মাদাগাস্কারেও সরকার পতনে ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশে অনেকেই সন্তুষ্ট যে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছেÑ যে শাসনামল জালিয়াতিপূর্ণ নির্বাচনের অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় সম্পদের লুটপাট এবং ভিন্নমতকে দমন-পীড়নের অভিযোগে কলঙ্কিত ছিল। হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র মির্জা শাকিল সিএনএনকে বলেন, এই বিপ্লব দেখিয়েছে, জেন-জি কী অর্জন করতে পারে। জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের হিসাবে, ওই সহিংসতায় প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আদালতের রায়ের সময় জড়ো হয়, যখন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে বাস্তবতা হলোÑ হাসিনার পতনের জন্য যারা জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিল, তাদের কেউ-ই এখন দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে আসার মূল দৌড়ে নেই। হাসিনাবিহীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা যাদের বেশি, তাদের দুজনই সেই তরুণ বিপ্লবীদের আদর্শ থেকে অনেক দূরের প্রতিনিধি। একজন হলেন ৬০ বছর বয়সী এক রাজনৈতিক বংশের উত্তরসূরি, যে বংশ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে। অন্যজন ৬৭ বছর বয়সী একজন ইসলামপন্থি নেতা, যার দল এবারের নির্বাচনে একজন নারী প্রার্থীও দেয়নি। আন্দোলনে অংশ নেওয়া আরেক সাবেক শিক্ষার্থী সাদমান মুজতবা রাফিদ রয়টার্সকে বলেন, আমরা এমন একটি দেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, যেখানে লিঙ্গ, জাতি কিংবা ধর্মনির্বিশেষে সবাই সমান সুযোগ পাবে। আমরা নীতিগত পরিবর্তন আর সংস্কার আশা করেছিলাম, কিন্তু বাস্তবতা আমাদের স্বপ্ন থেকে অনেক দূরে। হাসিনার পতনের সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে। সরকারের পক্ষ থেকে এর জবাবে চালানো হয় নির্মম ও রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়ন, যা আন্দোলনকে থামানোর বদলে আরও বিস্তৃৃত করে তোলে। শিগগিরই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। সেনাবাহিনী যখন জানিয়ে দেয়, তারা আর বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালাবে না, তখনই স্পষ্ট হয়ে যায়Ñ হাসিনার শাসনের অবসান আসন্ন। ২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষার্থীরা তার সরকারি বাসভবনে ঢুকে দেয়াল ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে শেখ হাসিনা প্রতিবেশী দেশ ভারতে পালিয়ে যান এবং সেখানেই নির্বাসনে থাকছেন। গত নভেম্বর মাসে ঢাকার একটি আদালত তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। হাসিনা অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বর্তমানে তাকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে টানাপড়েন চলছে। বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে চায়। আসন্ন নির্বাচনে তার দল আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে নিষেধ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা ও তার দলের অনুপস্থিতি সবচেয়ে বেশি সুবিধা করে দিয়েছে ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে। দলের নেতা তারেক রহমানÑ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও হাসিনার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রয়াত খালেদা জিয়ার পুত্র। ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরেছেন। তাকেই এখন নির্বাচনের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে হাসিনার শাসনামলে দমনের শিকার হওয়া দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামীও রাজনীতিতে পুনরুত্থান ঘটাচ্ছে। বিদ্রোহের পর শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) বাংলাদেশের বিভক্ত ও প্রায়ই সহিংস রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে দলটি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করার ঘোষণা দিলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। লন্ডনের এসওএএস বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক নাওমি হোসেন সিএনএনকে বলেন, এনসিপির কিছু প্রার্থী জামায়াতের সঙ্গে জোট করলে সংসদে যাওয়ার বাস্তব সুযোগ পেতে পারেন। তিনি আরও বলেন, সহিংস রাজনৈতিক পরিবেশে সংসদ সদস্য হওয়া এক ধরনের নিরাপত্তা দেয়। সংসদের বাইরে থাকলে নেতারা প্রতিশোধমূলক হামলার ঝুঁকিতে থাকেন। নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের ওপর হামলা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থÑ এমন অভিযোগও উঠেছে। এ অস্থিরতা সেই স্বপ্নের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যা ছাত্র আন্দোলনকারীরা একসময় লালন করেছিল। শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী নাজিফা জান্নাত বলেন, এনসিপি সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। নারী প্রার্থীহীন একটি দলের সঙ্গে জোট করা তার কাছে বিশ্বাসঘাতকতার মতো মনে হয়। তিনি বলেন. এটা লজ্জাজনক। আমরা তাদের বলেছি, এটা আমাদের জন্য কতটা অপমানজনক। সব বিতর্ক ও হতাশার মধ্যেও বৃহস্পতিবারের নির্বাচনকে এক দশকেরও বেশি সময় পর দেশের প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে দেখছেন অনেকে। ঢাকার রাজপথে তাই উত্তেজনা আর প্রত্যাশার আবহ। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শাকিল সিএনএনকে বলেন, এই নির্বাচন নতুন কিছু আনতে পারে। আমরা আশাবাদী। SHARES জাতীয় বিষয়: