পদ্মা-মেঘনায় দুই মাস ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা PAYRA NEWS PAYRA NEWS প্রকাশিত: ১২:০২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ ডেস্ক রিপোর্ট: মার্চ-এপ্রিল দুই মাসের জন্য চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটারসহ দেশের ছয়টি অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রাখার নিষেধাজ্ঞা। ইলিশের জাটকা রক্ষার জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দুই মাস কর্মহীন হয়ে পড়ায় পরিবার-পরিজনের ভরণ-পোষণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় জেলেরা। আর নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভায়শ্রমগুলোতে ২৪ ঘণ্টা থাকছে জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের টহল। চাঁদপুরের পদ্মা নদী ও মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকার ষাটনল থেকে চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জাল ফেলা, মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। মাছ ধরা বন্ধ সময়ে নৌকা ও জাল মেরামতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা। নিষেধাজ্ঞার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব দক্ষিণ ও মতলব উত্তরসহ চার উপজেলার ৪৭ হাজারের বেশি নিবন্ধিত জেলে। এবার তাদের মধ্যে খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন ৩৯ হাজার ৪শ জেলে। সরকার মাসে ৪০ কেজি করে চার কিস্তিতে ১৬০ কেজি চাল বিতরণের ঘোষণা দিলেও জেলাদের মতে, কিস্তির চাপ ও সংসারের দৈনন্দিন খরচের তুলনায় এটি যথেষ্ট নয়। সদর উপজেলার সাখুয়া এলাকার জেলে মমিন মিজি বলেন, ‘আমরা জেলেরা জাল বেয়ে ভাত খাই। আমাদের সমস্যা হলো মনে করেন, আমরা এই যে অভিযান আইতাছে- অভিযান আমরা পালন করি। আমরা জাটকা ধরিও না, আটকা আমরা পড়িও না। আমরা জাটকা ধরিও না, আটকা আমরা পড়িও না। আমাদের জেলেদের কিস্তি-মিস্তি আছে- এটা পুরা সমস্যা কিছু কিছু কিস্তি নেয়, কিছু কিছু কিস্তি নেয় না। এখন এই কিস্তিগুলো কেমনে বন্ধ করা যায়- সেটার জন্য সরকার যদি কোনো কিছু করতো- তাহলে আমাদের জন্য সুবিধা হতো।’ রনগোয়াল এলাকার জেলে আব্বাস ছৈয়াল বলেন, ‘দুই মাসের অভিযানেতো আমাদের বিরাট ক্ষতি হয়ে যায়। তারপরও দেখা যায় যে, সরকার নিষেধাজ্ঞা আসলে আমাদের মাইনা চলা- আমরাতো মাইনা চলি। নদীতেতো আরো কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আর আমাদের দিকে সরকার একটু ফলো করলে, আমাদের অনেক লেভার ফাংশান আছে। ২-৩ হাজার লোক আছে যা অচল হয়ে যায়। দুই মাসতো বইয়া খাওয়া সম্ভব না। ‘ আনন্দ বাজার এলাকার জেলে সাব্বির হোসেন বলেন, ‘সরকারে আইন করছে তো মানে প্রতি বছরে ২ মাস করে জাটকার অভিযান, জাটকার অভিযানের আগেই আমরা জাল উঠাইয়া পালাই। জাল পালা উঠাইয়া আমরা অসমাপ্ত হয়ে যাই। সরকার আমগোরে যদি চাউল দেয়, কেউ পায়, কেউ পায় না। ‘ চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছ ঘাটের ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন বলেন, শেষ মুহূর্তে ঘাটে ৭শ থেকে ৮শ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৫টাকা, ৩ টায় কেজি ১২শ থেকে ১৩ শ টাকা, ৪ টায় কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭শ থেকে ৮শ টাকা। এছাড়া দেড় কেজির ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার টাকা ধরে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা সচেতনতার পাশাপাশি আইন মেনে চলা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নসহ পদ্মা-মেঘনা নদীর চরাঞ্চলে ভালো ভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে, তাহলে এই অভিযান ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করেন জেলা মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি আবদুল বারী জমাদার মানিক। তিনি বলেন, ‘আগামী পহেলা মার্চ ২ মাসের জন্য সেঞ্চুরি পিরিয়ড শুরু হবে। আমরা মনে করি, আসলে এই সেঞ্চুরি পিরিয়ড সফল করতে হলে ব্যবসায়ী জেলে এই সেক্টরে যারাই আছেন সকলকে সচেতন হইতে হবে, আইন মানতে হবে। ‘ তিনি আরো বলেন, ‘পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যারা আছেন তাদেরকে আসলে খুব সচেতন ভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। এবং সকল পর্যায়ের মানুষ যারা আছে এই সেক্টরে সকলেই যদি সচেতন হয় এবং তাদের দায়িত্বের ব্যপারে সচেতন হয় তাহলে এই অভিযান সফল হবে বলে আমরা মনে করি। সবচাইতে বেশি যে আইনটা অমান্য করার প্রবণতা আমরা দেখি। রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের এখানে, মতলব উত্তর, হাইমচর আর পাশাপাশি মেঘনার পশ্চিমে শরিয়তপুর এলাকার লোকজনও কিন্তু এখানে এসে মাছ ধরে। এই অঞ্চল গুলোতে যদি ভালো ভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে তাহলে এই অভিযান ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করি।’ এই দুই মাস নদীতে না নামতে ইতোমধ্যে সচেতন সভা, মাইকিং, পোস্টারিং এর মাধ্যমে জেলেদের সচেতন করা হয়েছে। নিষেধাঙ্গা সময়ে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নে থাকবে জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী। মার্চ ও এপ্রিল মাসজুড়ে জাটকা রক্ষার জন্য ১২ টি স্প্রিডবোটে টিম ভিত্তিক ২৪ ঘন্টা নদীতে টহলে থাকবে সংশ্লিষ্ট ট্রাস্কফোর্স- জানান জেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা মোহম্মদ ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন,’ প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও পহেলা মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল আমাদের অভয়াশ্রম কার্যক্রম শুরু হবে চাঁদপুরে। আমরা এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো ইলিশকে রক্ষা করা। সাথে অন্যান্য মাছও আমাদের রক্ষা পাবে, এবং প্রাচুর্যতা বৃদ্ধি পাবে সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সচেতন সভা, মাইকিং, পোস্টারিং এর মাধ্যমে জেলেদের সচেতন করেছি এবং এটা ২ মাস অব্যাহত থাকবে। সাথে সাথে আমাদের জেলা টাস্কফোর্স এর মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট এবং অভিযান এটা সার্বক্ষণিক আমরা এরকম পরিচালিত করবো। জেলেরা যেনো জাল ফেলতে না পাবে, কিছু কিছু জেলে যারা জাল ফেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠিন আইনানুগ আমরা গ্রহণ করবো।’ তিনি আরও বলেন,’ এই অভয়াশ্রম পাহার দেওয়ার জন্য ৭০ কিলোমিটার এলাকা আমাদের ৩ উপজেলার আওতায় ১২ টা স্পিডবোটের মধ্যমে ২৪ ঘন্টাই আমাদের টিম নদীতে অবস্থান করবে। যেনো জেলেরা না নামতে পারে।’ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। SHARES সারা বাংলা বিষয়: