ডেস্ক রিপোর্ট: প্রবীণ বলিউড অভিনেতা ভারত কাপুর প্রয়াত। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘ কয়েকদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন তিনি।
পর্দায় ভিলেনের সহচর হিসেবে তিনি ছিলেন অনন্য। চোখা সংলাপ আর পরিমিত অভিনয়ের জাদুতে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন ভরত কাপুর। শুধু বড় পর্দা নয়, থিয়েটারের মঞ্চ থেকেও কুড়িয়েছিলেন অঢেল প্রশংসা। সোমবার সন্ধ্যায় এই অভিনেতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তার প্রয়াণে দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও বন্ধু অবতার গিল গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
অভিনেতা আবতার গিল এই দুঃসংবাদ নিশ্চিত করে জানান, গত তিন দিন ধরে ভারত কাপুরের শারীরিক অবস্থা ভাল ছিল না। তিনি বাড়িতেই ছিলেন, যদিও তার আগে হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়েছিল। সোমবারই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। গিল জানান, “আমি সবে শ্মশান থেকে ফিরলাম। ওনার ছেলে ফোন করে অসুস্থতার কথা জানায়।”
তিনি আরও জানান, শেষকৃত্যে খুব অল্প সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি থিয়েটার সংগঠন IPTA-র কিছু সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রাকেশ বেদী, পরিচালক রমেশ কুমার এবং অভিনেতা কুলদীপ সিং। আগামী ৩০ এপ্রিল বিকেল ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত তাঁর বাসভবনে প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
১৯৭০-এর দশকের শুরুতে অভিনয়জীবন শুরু করা ভারত কাপুর চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডে সক্রিয় ছিলেন। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলেও তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন পার্শ্বচরিত্র ও খলনায়কের ভূমিকায়। অল্প সময়ের উপস্থিতিতেও দর্শকদের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলতে পারতেন তিনি।
তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে নূরী (১৯৭৯), রাম বালরাম (১৯৮০), লাভ স্টোরি (১৯৮১), বাজার (১৯৮২), গুলামি (১৯৮৫), আখরি রাস্তা (১৯৮৬), সত্যমেব জয়তে (১৯৮৭), স্বর্গ (১৯৯০), খুদা গवाह (১৯৯২), রং (১৯৯৩), বরসাত (১৯৯৫), সাজন চলে সাসুরাল (১৯৯৬) এবং মীনাক্ষী: এ টেল অফ থ্রি সিটিজ (২০০৪)।
চলচ্চিত্রের পাশাপাশি টেলিভিশন জগতেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত মুখ। ক্যাম্পাস, পরম্পরা, রাহত, সাঁস, আমানত, ভাগ্যবিধাতা, তারা, চুনৌতি এবং কাহানি চন্দ্রকান্তা কি সহ একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবনে ভরত কাপুর স্ত্রী লোপা এবং দুই পুত্র রাহুল ও সাগরকে রেখে গেছেন। এর আগে তার একমাত্র কন্যা কবিতা অকালপ্রয়াত হন। অভিনেতার চলে যাওয়ায় ভক্তদের মাঝেও শোকের আবহ বিরাজ করছে। তবে পর্দার সেই চিরচেনা ভরত কাপুর তার কালজয়ী কাজের মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকবেন আজীবন।