ফিটনেস, আইন ও নির্বাচক প্যানেল-কোন পথে সাকিবের ফেরা?

প্রকাশিত: ৮:৩০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের ক্রিকেটে একটিই প্রশ্ন ঘুরছে-সাকিব আল হাসান কি আবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেখা দেবেন? গুঞ্জন উঠেছে বারবার, কিন্তু বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সরাসরি কোনো অবস্থান না নিয়ে বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছে নির্বাচক প্যানেল ও টিম ম্যানেজমেন্টের বিবেচনার ওপর। বিসিবির হেড অব প্রোগ্রাম মিনহাজুল আবেদীন নান্নুও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তার একার নয়।

ক্রিকেটার সাকিবের চেয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতিবিদ সাকিব পরিচয়টাই বেশি আলোচিত। ফলে দেশের হয়ে আবার মাঠে নামা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নয়, দেশের ঘরোয়া আসরেও দেখা যায়নি তাকে।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ কিংবা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ-কোনো প্রতিযোগিতাতেই অংশ নিতে পারেননি তিনি। দেশে ফিরে ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর ইচ্ছার কথা বহুবার বললেও নানা বাস্তবতায় দেশে ফেরাই সম্ভব হয়নি। এর সঙ্গে রয়েছে তার বিরুদ্ধে চলমান একাধিক মামলা, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। নির্বাচন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নান্নুকে সাকিবের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।

জবাবে নান্নু বলেন, ‘দেখুন, সাকিব বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার। এই জায়গায় দাঁড়িয়ে এটা বলা মুশকিল যে বাংলাদেশ দলে কখন খেলবে। এটা নির্বাচক প্যানেল ও টিম ম্যানেজমেন্ট ঠিক করবে। তার ফিটনেসের কী অবস্থা ও সে কী অবস্থার মধ্যে আছে, নির্বাচক প্যানেল ও টিম ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নেবেন। সুতরাং আগে তো ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে পারবে কি না, কোথায় কী অবস্থা, এটা নির্বাচক প্যানেল ও টিম ম্যানেজমেন্ট চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।’

২০২৪ সালের অক্টোবরে মিরপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলেই বিদায় নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন সাকিব। তৎকালীন দুই উপদেষ্টার অনুমতি পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার উদ্যোগও নেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি বিসিবির বোর্ড সভায় তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা নিয়ে আলোচনা হয়।

সবকিছু মিলিয়ে সাকিবের ক্রিকেট-ভবিষ্যৎ এখনো ধোঁয়াশায়। ফিটনেস, আইনি অবস্থা, নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি-এই চারটি উপাদানই ঠিক করে দেবে, দেশের জার্সিতে আবারও দেখা যাবে কি না বাংলাদেশের এই তারকা অলরাউন্ডারকে।