বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই শোক: সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৩ জনের

প্রকাশিত: ৮:৪৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর-কনেসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাইব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বর সাব্বির, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক, কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), মিতুর বোন লামিয়া, তাদের নানি এবং মাইক্রোবাসের চালকসহ মোট ১৩ জন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলাইব্রিজ এলাকায় দ্রুতগতিতে আসা একটি বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটির প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

নিহত কনে মার্জিয়া আক্তারের মামা আবু তাহের জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা এলাকায় মার্জিয়ার সঙ্গে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শেলাবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা আ. রাজ্জাকের ছেলে সাব্বিরের বিয়ে হয়। বিয়ের পর বরযাত্রীদের নিয়ে মাইক্রোবাসটি মার্জিয়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে মোংলার উদ্দেশে রওনা দেয়। পথে রামপালে পৌঁছালে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম হাসানুজ্জামান জানান, নৌবাহিনীর যাত্রীবাহী বাসটি খুলনার দিকে যাচ্ছিল এবং মাইক্রোবাসটি ছিল মোংলাগামী। বেলাইব্রিজ এলাকায় দুটি যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনায় নিহত চারজনের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। আহত কয়েকজনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমাদের এখানে আটজনের মরদেহ আনা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী ও দুজন পুরুষ। এ ছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি থাকা আরও একজন পরে মারা গেছেন।’