রমজানে ইফতার করানো শ্রেষ্ঠ আমল PAYRA NEWS PAYRA NEWS প্রকাশিত: ৬:৫৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ ডেস্ক রিপোর্ট: পবিত্র রমজান মাস শুধু নিজের ইবাদত-বন্দেগির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার শিক্ষা দেয় না, বরং এটি হৃদয়ের উদারতা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার এক অনন্য সময়। সারাদিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করে একজন রোজাদার যখন সূর্যাস্তের প্রতীক্ষায় থাকে, তখন তার সামনে একটুকরো খাবার তুলে দেওয়া শুধু দান নয়, বরং তার ইবাদতের আনন্দে শরিক হওয়ার এক মহৎ সুযোগ। ইসলামের সৌন্দর্য এখানেই যে, অন্যের ইবাদতে সহযোগিতা করাকেও আল্লাহতায়ালা মহান সওয়াবের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। সামান্য খেজুর বা এক গ্লাস পানির মাধ্যমেও একজন মুমিন এমন প্রতিদান লাভ করতে পারে, যা তার কল্পনারও বাইরে। হজরত যায়েদ ইবনে খালিদ আল-জুহানি (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো রোজা পালনকারীকে যে লোক ইফতার করায় সে লোকের জন্যও রোজা পালনকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব রয়েছে। কিন্তু এর ফলে রোজা পালনকারীর সাওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না। -জামে তিরমিজি: ৮০৭ এই হাদিসটি ইসলামের দানশীলতা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরে। এখানে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন এক সুসংবাদ দিয়েছেন, যা একজন মুমিনের হৃদয়ে অন্যের জন্য কাজ করার গভীর আগ্রহ সৃষ্টি করে। একজন রোজাদার সারাদিন ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও নফসের তাড়না দমন করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে ইবাদত সম্পন্ন করে, তাকে ইফতার করানোর মাধ্যমে সেই মহান ইবাদতের সওয়াবে শরিক হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এই হাদিসের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো- ইফতার করানো ব্যক্তিও রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে, অথচ রোজাদারের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না। এটি আল্লাহর অসীম অনুগ্রহ ও দয়ার পরিচয় বহন করে। মানুষের দান সীমিত হলেও আল্লাহর প্রতিদান সীমাহীন। তাই সামান্য কিছু দিয়েও একজন মুমিন অগণিত সওয়াব অর্জন করতে পারে। এ হাদিস থেকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায় যে, ইফতার করানো বড় আয়োজন বা আড়ম্বরের ওপর নির্ভরশীল নয়। একটি খেজুর, এক গ্লাস পানি বা সামান্য খাবার দিয়েও এই ফজিলত অর্জন করা সম্ভব। অন্য হাদিসে এসেছে, নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘যদিও এক টুকরো খেজুর বা এক ঢোক পানি দিয়ে হয়, তবুও রোজাদারকে ইফতার করাও।’ -ইবনে খুযাইমা এর মাধ্যমে ইসলামের সামাজিক চেতনা ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই একে অপরের ইবাদতে সহযোগিতা করবে, একে অপরের কষ্ট লাঘব করবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে প্রতিযোগিতা করবে। বিশেষ করে অভাবী ও অসহায় রোজাদারদের ইফতার করানো আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় আমল। অতএব, এই হাদিস আমাদের শেখায় যে, রমজান শুধু নিজের আমলের মাস নয়; বরং অন্যের ইবাদতে সহযোগিতা করে অফুরন্ত সওয়াব অর্জনেরও সুবর্ণ সুযোগ। আন্তরিকতা ও ইখলাসের সঙ্গে রোজাদারকে ইফতার করানো একজন মুমিনের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতের বড় সৌভাগ্যের কারণ হতে পারে। SHARES জীবন-যাপন বিষয়: