কেন আমার সন্তান কথা শুনছে না? কী করা উচিত?

প্রকাশিত: ১:২৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩০, ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: “কেন আমার সন্তান কথা শুনছে না?” বা “সন্তান যখন রেগে যায়, তখন কী করা উচিত?”—এ ধরনের প্রশ্ন অনেক বাবা-মার মনকে ক্লান্ত করে। যখন সন্তান কথা শুনছে না বা বারবার অভদ্রভাবে জবাব দিচ্ছে, তখন নিজেকে শান্ত রাখা কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু এই সময়টাতেই অভিভাবক হিসেবে নিজের অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এই ফিচারে আপনারা জানবেন কীভাবে মাত্র শান্তি বজায় রেখেই সন্তানের অবাধ্য কথাবার্তা সামলানো যায়।

সন্তান অবাধ্য— অনেক অভিভাবকের মুখেই এমন অভিযোগ শুনতে পাওয়া যায়। অবাধ্য ছেলেমেয়ের দৌরাত্ম নিয়ে আত্মীয় বা বন্ধুমহলে আলোচনাও কম হয় না। কোনও কথায় অবাধ্য হলেই বাবা-মায়েরা শাসন করতে শুরু করে দেন। চলে বকুনি। কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি, কেন কথা শুনছে না সে? তা কি কেবলই তার দোষ, না কি সেখানে কোনও ফাঁক থেকে যাচ্ছে আপনার তরফেও? কম বয়সে একটু-আধটু অবাধ্যতা অস্বাভাবিক নয়। তবে তা সামলানোর দায়িত্ব বাবা-মায়ের। সেই সময়ে কোনও ভুল পদক্ষেপ সমস্যা ডেকে আনতে পারে। বকাঝকা দিয়ে কোনও সুষ্ঠু কাজ হয় না। ঠান্ডা মাথায় সন্তানের অবাধ্যতা সামলানো জরুরি। রইল তেমন কয়েকটি উপায়।

৩) সন্তান যখন তার বন্ধু বা স্কুলের গল্প বলে, বা আপনার সঙ্গে খেলতে চায়, তখন সে কথা রাখেন? অনেক সময়েই দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যস্ততার মধ্যে থাকার কারণে সন্তানের কথা কান এড়িয়ে যায়। অনিচ্ছাকৃত হলেও শিশুদের মধ্যে এ নিয়ে চাপা অসন্তোষ তৈরি হয়। অবচেতনে সেই ক্ষোভ বুঝতে পারে না সন্তানও। কিন্তু তার প্রভাব তৈরি হয় আচরণে। অবাধ্য হতে শুরু করে।

৪) অনেক সন্তান আছে, যারা ইচ্ছাকৃতই বাবা-মায়ের অবাধ্য হয়। খুব ছোটবেলাতেই এমন স্বভাবের হদিস পেলে তাকে প্রথমেই শাসন করে আরও একগুঁয়ে করে তুলবেন না। তার চেয়ে তার এই অভ্যাস বদলানোর জন্য কিছু নিয়মশৃঙ্খলা আনুন। কাজ না হলে মনোবিদের সাহায্য নিতে পারেন।

১. নিজে শান্ত থাকুন

সন্তানের অবাধ্য কথাবার্তায় আপনার ভেতরের রাগ জেগে ওঠাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ঠিক তখনই যদি আপনি শান্ত থাকেন, তাহলে সে শিখবে—উত্তেজনা বা বেয়াদবি কোনো সমস্যার সমাধান নয়।

চুপচাপ দশ সেকেন্ডের জন্য শ্বাস নিন

প্রয়োজনে একটু সময় নিয়ে নিন নিজের জন্য

আপনার প্রতিক্রিয়া দেখে সন্তান ধীরে ধীরে শিখবে কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়।

২. ঘরে সহজ নিয়ম গড়ে তুলুন

শিশুরা নির্দিষ্ট সীমা না জানলে সহজেই বিভ্রান্ত হয়। “আমরা ভদ্রভাবে কথা বলি”, “রেগে গেলেও গালাগালি করি না”—এ ধরনের নিয়ম ছোট বাক্যে বোঝান।

নিয়মগুলো ঝগড়ার সময় নয়, শান্ত অবস্থায় আলাপ করে ঠিক করুন

সঙ্গে জানিয়ে দিন, নিয়ম মানা না হলে কী ফলাফল হবে।

যেমন—খেলার সময় কমে যাবে, অথবা স্ক্রিন টাইম হ্রাস পাবে।এভাবে শিশু শৃঙ্খলার গুরুত্ব শিখবে।

৩. মনোযোগ দিয়ে শুনুন

অনেক সময় সন্তান অভিমান বা কষ্ট থেকে বাজে আচরণ করে।

এসময় আপনি যদি জিজ্ঞেস করেন—“তুমি রেগে গেছো নাকি? কী হয়েছে?”—সে বুঝবে আপনি তার পাশে আছেন।

বলুন, “আমি শুনব, কিন্তু ভদ্রভাবে বলো।”

এভাবে কথা বললে তার মধ্যে নিরাপত্তা ও শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হবে।

৪. ভালো আচরণে প্রশংসা করুন

শুধু সন্তানের অবাধ্য কথাবার্তার জন্য শাস্তি নয়, বরং যখনই সন্তান সুন্দরভাবে কথা বলবে বা নিয়ম মানবে, তখনই প্রশংসা করুন। মাঝে মাঝে ছোট পুরস্কার দিন। এতে তারা বুঝবে—ভালো ব্যবহারের ফলাফল ভালো হয়।

৫. ধৈর্য ধরুন

শিশুর আচরণ একদিনে বদলায় না। তাই নিয়ম মানলে যেমন প্রশংসা করবেন, না মানলে সেই একই নিয়মে শান্তভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান।

শিশু যেন বিভ্রান্ত না হয়ে যায়। ধৈর্য ধরুন, বারবার মনে করিয়ে দিন এবং উন্নতির জন্য উৎসাহ দিন। আর যদি দেখেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তবে চাইল্ড সাইকোলজিস্টের পরামর্শ নিতে দ্বিধা করবেন না।

সন্তান যখন অভদ্রভাবে কথা বলে, তখন তা শুধু আপনার ধৈর্যের পরীক্ষাই নয়, বরং একটি শেখানোর সুযোগও। আপনি যদি ধৈর্য ধরে নিয়মিত সাড়া দেন, তাহলে ধীরে ধীরে সে শিখে যাবে—কীভাবে সম্মান দেখাতে হয়, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় এবং সম্পর্ক বজায় রাখতে হয়।

আপনার ভালোবাসা, ধৈর্য আর দৃঢ় অবস্থানই একদিন তাকে করে তুলবে একজন দায়িত্বশীল মানুষ।