পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের কান্না কি কেউ শুনতে পায়? PAYRA NEWS PAYRA NEWS প্রকাশিত: ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৫, ২০২৬ ডেস্ক রিপোর্ট: একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ধারার ব্যাংকের প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারী চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। তাঁরা অভিযোগ করছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বাভাবিক লেনদেন করতে না পারার পাশাপাশি আমানতের মুনাফা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁদের আর্থিক সংকট আরও গভীর করেছে। ভুক্তভোগীদের একজন এক্সিম ব্যাংক–এর গ্রাহক মেহনাজ বেগম। কথার শুরুতেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়লেন। জানালেন, অবসরকালীন সঞ্চয় ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে রাখলেও এখন প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে পারছেন না। একইভাবে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক–এর গ্রাহক আফজালুল হক বলেন, সুদবিহীন ব্যাংকিংয়ের প্রত্যাশায় আমানত রাখলেও বর্তমানে তিনি আর্থিকভাবে বিপাকে পড়েছেন। একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংক হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এসব ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ নামে নতুন ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য আমানতের ওপর ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়া হবে। অথচ অনেক আমানতকারী ১২ থেকে ১৪ শতাংশ মুনাফার চুক্তিতে অর্থ জমা রেখেছিলেন। ‘হেয়ার কাট’ নামে মুনাফার অংশ কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আমানতকারীরা মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, একীভূত ব্যাংকের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এর আগে সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর–এর নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ ব্যাংকে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার আমানত রয়েছে। অন্যদিকে ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশ খেলাপি। সরকারের পক্ষ থেকে নতুন ব্যাংকের মূলধন জোগানে ২০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী মুনাফা কমানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ব্যাংকের ক্ষতির দায় আমানতকারীদের ওপর চাপানো নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট দায়েরের উদ্যোগ নিয়েছেন কয়েকটি ব্যাংকের উদ্যোক্তারা। সার্বিক পরিস্থিতিতে আমানতকারীরা দ্রুত সমাধান ও স্বাভাবিক লেনদেন চালুর দাবি জানিয়েছেন। SHARES প্রচ্ছদ বিষয়: