কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষ: দুই গেটম্যান বরখাস্ত, তদন্তে কমিটি গঠন

প্রকাশিত: ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট: কুমিল্লার সদর দক্ষিণে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় হেলাল উদ্দিন ও মেহেদী হাসান নামে দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রবিবার (২২ মার্চ) সকাল ৯টায় তাদের দুইজনকে বরখাস্ত করা হয়।

পাশাপাশি এ ঘটনায় তদন্তে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে দুই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিং এলাকায় দায়িত্বরত মেহেদী হাসান ও হেলাল উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ৬ সদস্যের বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের পরিবহন কর্মকর্তা আনিসুর রহমানকে।

অন্যদিকে ৬ সদস্যের জোনাল তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পূর্ব) মোহাম্মদ সফিকুর রহমানকে।

বিভাগীয় তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ আবু রাফি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোসাইন, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) মো. রেজওয়ান-উল-ইসলাম, বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী মো. আশিকুর রহমান, বিভাগীয় মেডিকেল অফিসার ডা. তাহামিনা ইয়াছমিন এবং আরএনবি কমান্ড্যান্ট মো. শহীদ উল্লাহ।

অন্যদিকে জোনাল তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন—চিফ ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) মো. তানভিরুল ইসলাম, চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) সাদেকুর রহমান, চিফ সিগন্যাল ও টেলিকম ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) তারেক মোহাম্মদ শামছ তুষার, চিফ মেডিকেল অফিসার (পূর্ব) ডা. ইবনে সফি আব্দুল আহাদ এবং চিফ কমান্ড্যান্ট, আরএনবি (পূর্ব) মো. জহিরুল ইসলাম।

রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, দুই তদন্ত কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) রাতে ২টা ৫৫ মিনিটে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিং এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীর দিকে যাওয়া মামুন পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা গামী মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় ১২ জনের। যাদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ নারী ও ৩ শিশু।