ববি উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, প্রশাসনিক ভবনে তালা

প্রকাশিত: ৪:৫৯ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়েছেন কর্মচারীরা। শিক্ষকদের নির্দেশনায় সোমবার (১১ মে) বেলা ১১টার দিকে প্রশাসনিক কার্যালয়গুলোতে এ তালা ঝোলানো হয়। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। তালা ঝোলানোর সময় প্রশাসনিক ভবন থেকে রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা বের হয়ে যান।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে তারা রেজিস্ট্রারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর তালা ঝোলানোর বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাইউম বলেন, আমাদের নির্দেশনায় তালা ঝুলানো হয়েছে। তালা ঝোলানোর সময় উপস্থিত কর্মচারীরাও বলেন, আমরা শিক্ষকদের নির্দেশনায় এই তালা ঝুলিয়েছি।

শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলমান প্রশাসনিক জটিলতা ও শিক্ষক সংকটের সমাধান না হওয়ায় তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের দাবি, বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক স্বল্পতা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ধীমান কুমার রায় বলেন, আমরা উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। ওনাকে আমরা প্রশাসনিকভাবে কোনো সহযোগিতা করবো না।

প্রশাসনিক বিভিন্ন পদ থেকে শিক্ষকরা পদত্যাগ করছেন। ইতোমধ্যে তিনজন পদত্যাগ করেছেন। বাকিরাও পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আমাদের বোর্ড বসিয়েছে ছয় মাস হয়ে গেল, কিন্তু উপাচার্য পদোন্নতির বিষয়গুলো ঝুলিয়ে রেখেছেন।

সেশনজটের আশঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় সাময়িকভাবে সেশনজটের শঙ্কা তৈরি হলেও সাধারণ শিক্ষকরা সেটি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পাঁচজনের কাজ একজন করে করছেন। এভাবে কখনো শিক্ষার মান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। শিক্ষক সংকট নিরসন হলেই দীর্ঘদিনের সংকট কেটে যাবে।

তবে শিক্ষকদের এ কর্মসূচিকে আইনবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম। তিনি বলেন, শিক্ষকরা চাইলে নিজেরা কর্মবিরতি পালন করতে পারেন, কিন্তু অন্যের কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারেন না। এটি সরাসরি আইনবিরুদ্ধ। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

উপাচার্যকে শিক্ষকদের অবাঞ্ছিত ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাকে সরকার কর্তৃক এখানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার আমাকে এখান থেকে প্রত্যাহার না করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি দৃঢ়তার সঙ্গে আমার দায়িত্ব পালন করে যাবো।