হাঁটুর ব্যথা: হাঁটলে নয়, সিঁড়িতে কেন বেশি কষ্ট হয়?

প্রকাশিত: ২:৪৬ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: হাঁটাচলার সময় হাঁটুর ব্যথা তেমন না হলেও সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে গেলেই অনেকের কষ্ট বেড়ে যায়। বিশেষ করে আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত রোগীরা হাঁটতে পারলেও সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে তীব্র ব্যথায় ভোগেন। এমনকি অনেক সুস্থ মানুষও সিঁড়ি ওঠানামায় স্বাভাবিক গতিতে হাঁটতে পারেন না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিঁড়ি ভাঙার সময় হাঁটুর ওপর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়, যার কারণে ব্যথা বেশি অনুভূত হয়। হাঁটুর জয়েন্ট মূলত ফিমার, টিবিয়া এবং মাঝখানের কার্টিলেজ দিয়ে গঠিত। এই কার্টিলেজ একটি কুশনের মতো কাজ করে, যা হাড়ের মধ্যে ঘর্ষণ কমায়। এটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাঁটুর হাড়ে সরাসরি ঘষা লাগে এবং ব্যথা শুরু হয়।

তবে শুধু কার্টিলেজ নয়, হাঁটুর সামনের ছোট হাড়—প্যাটেলা বা মালাইচাকির সমস্যাও এর জন্য দায়ী হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘প্যাটেলোফিমোরাল পেইন সিনড্রোম’। এ অবস্থায় সিঁড়ি ওঠানামার সময় হাঁটুর সামনে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।

মালাইচাকির অবস্থান বা কার্যকারিতায় সমস্যা থাকলে হাঁটুর স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। বয়সজনিত পরিবর্তন, আঘাত বা অতিরিক্ত চাপের কারণে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, তরুণদের মধ্যে দীর্ঘ সময় বসে থাকা, অতিরিক্ত ব্যায়াম বা ভুল ভঙ্গিতে জিম করার কারণে এ ধরনের সমস্যা বাড়ছে। অন্যদিকে বয়স্কদের ক্ষেত্রে অস্টিওআর্থ্রাইটিস, হাড় ক্ষয় এবং অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর ব্যথা বাড়িয়ে তোলে।

হাড়ের কার্টিলেজ ক্ষয় হতে থাকলে শরীর তা পুনর্গঠন করতে না পেরে অতিরিক্ত হাড় তৈরি করে, যাকে বলা হয় অস্টিওফাইটিক গ্রোথ। এটি হাঁটুর ব্যথা আরও বাড়িয়ে দেয়।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, হাঁটুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা এবং দীর্ঘসময় এক জায়গায় বসে না থাকা জরুরি।