লাইফলাইনে বিদ্যুতের দাম বাড়তে পারে ১৫ শতাংশ!

প্রকাশিত: ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ৩, ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: আবাসিকে ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারি (লাইফলাইন) গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সুত্র জানিয়েছে। এমনটি হলে ইউনিটপ্রতি বর্তমান দর ৪.৬৩ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৫.৩০ টাকা হতে পারে।

তাতে ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারি প্রত্যেক গ্রাহকের ভ্যাট ও অন্যান্য খরচ ছাড়া শুধু এনার্জি খরচ মাসে ৩৫ টাকার মতো বেড়ে যাবে। বুধবার (৩ জুন) বিকেল ৩ টায় নতুন দাম ঘোষণার সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিইআরসি। মাসে ৩৫ টাকা অনেকের কাছে সামান্য মনে হলেও নিম্ন আয়ের লোকগুলোর কাছে পাহাড়সম হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম।

হতদরিদ্র, নিম্ন আয় এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির কথা বিবেচনা করে লাইফলাইন গ্রাহক সৃষ্টি করা হয়। একটি ৩০ ওয়াটের লাইট ও একটি ফ্যান দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ব্যবহার করেন তেমন গ্রাহকরা এই বিলের আওতায় পড়েন। কিন্তু একাধিক ফ্যান থাকলে কিংবা একটি ফ্যান টানা চব্বিশ ঘণ্টা চালালে লাইফলাইনের আওতায় থাকার সুযোগ কম। তখন সেই গ্রাহককে (অনুর্ধ ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত) ভিন্ন স্তরের বিল দিতে হয়। সেই বিদ্যুতের দাম তুলনামূলক বেশি।

সারাদেশে থাকা ৬টি বিতরণ সংস্থার লাইনলাইন গ্রাহক রয়েছে ১ কোটি ৮৬ লাখের উপরে। মাসে ৪২০ টাকা হারে বিল বেড়ে গেলে বছরে (গ্রাহক প্রতি ৪২০) প্রায় ৭৮১ কোটি টাকা বাড়তি আদায় করা হবে। এরসঙ্গে আনুপাতিকহারে বাড়বে ভ্যাটের (৫ শতাংশ) পরিমাণ।

জুন ২০২৫ মাসের হিসাব অনুযায়ী ১ কোটি ৮৬ লাখ লাইফলাইন গ্রাহকের মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ৮৭ শতাংশ, বিপিডিবির ৪.৫ শতাংশ, নেসকো ৪ শতাংশ, ওজোপাডিকো ৩ শতাংশ। লাইফলাইন গ্রাহকের সংখ্যা সবচেয়ে কম রাজধানী ঢাকায়, বিরতণের দায়িত্বে থাকা ডিপিডিসির ১ শতাংশ এবং ডেসেকোর দশমিক ৫ শতাংশের মতো। অর্থাৎ গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারগুলো এই সুবিধার আওতায় রয়েছে। সেখানেই তোপ দাগতে যাচ্ছে বিইআরসি।

ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, লাইফলাইন গ্রাহকরা গড়ে ৪০ ইউনিটের মতো ব্যবহার করে থাকে। ইউনিট প্রতি ৬৯ পয়সা হলেও বছরে প্রায় ৬১৬ কোটি টাকা পকেট কাটা হবে। এই বিল দেন ভিক্ষুক থেকে শুরু করে হতদরিদ্র পরিবারগুলো, যারা দিন এনে দিন খায়! হিসাব অনুযায়ী তাদেরকে ফ্রি বিদ্যুৎ দেওয়া উচিত। বিল বেড়ে যাওয়ায় তারা ক্রয়ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারেন।

লাইফলাইনের বাইরে আবাসিকে আরও ৬টি ধাপ রয়েছে। ওইসব ধাপে তুলনামূলক বিল আরও বেশি বাড়তে পারে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে আবাসিকের প্রথমধাপে ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারির প্রতি ইউনিট ৫.২৬ টাকা, দ্বিতীয় ধাপ ৭৬-২০০ ইউনিট পর্যন্ত ৭.২০ টাকা, ২০১-৩০০ ইউনিট পর্যন্ত ৭.৫৯ টাকা, ৩০১-৪০০ ইউনিট ব্যবহারকারির ৮.০২ টাকা, ৪০১-৬০০ ইউনিট ১২.৬৭ টাকা এবং সর্বশেষ ধাপ ৬০০ ইউনিটের উর্ধ্বে ব্যবহারকারীদের ১৪.৬১ টাকা করা হয়। উল্লিখিত দর নিম্নচাপ শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য প্রযোজ্য, মধ্যম ও উচ্চচাপের গ্রাহকদের জন্য পৃথক দর রয়েছে।

মধ্যমচাপে ৫০ কিলোওয়াট থেকে ৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত গ্রাহকদের ফ্ল্যাট রেট ১০.৫৫ টাকা, অফ-পীকে ৯.৫০ এবং পীকে ১৩.২৯ টাকা করা হয়েছে। ২০২৪ সালে কৃষি সেচের ইউনিট দর ৪.৮২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫.২৫ টাকা করা হয়। এ ধরণের গ্রাহকের মধ্যমচাপে (১১ কেভি) ফ্ল্যাট রেটে ৫.৭৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬.৪২ টাকা, অফ-পীকে ৫.৭৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮.৬৩ টাকা, পীকে ৭.২৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮.০৬ টাকা করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রেও দাম বাড়তে যাচ্ছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।